জরিপে বিভিন্ন ধরনের স্কেল এর ব্যবহারিক পাঠ দেখবো আজ। এই পাঠটি সার্ভেয়িং ১ এর “শিকল জরিপ নক্শা” বিষয়ের একটি পাঠ।
Table of Contents
বিভিন্ন ধরনের স্কেল
যত বড় এলাকা তত বড় কাগজ পাওয়া এবং তার ব্যবহার ও সংরক্ষণ সম্ভব নয় বিধায় কোনো এলাকাকে সমান আকৃতিতে আঁকা সম্ভব নয়। তাই কোনো এলাকাকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট আকারের কাগজে আঁকার জন্য প্রয়োজনীয় অনুপাতে ছোট করে নেয়া হয়। কোনো এলাকাকে নির্দিষ্ট আকারের কাগজে অবিকল ও ছোট আকারে আঁকার জন্য প্রয়োজনীয় অনুপাতে ছোট করে নেয়ার দরকার হয়।

এ অনুপাতকেই নকশার স্কেল বা অঙ্কনের স্কেল (Scale of map or drawing) বলা হয়। অনুপাত একটি ভগ্নাংশ। স্কেলের ক্ষেত্রে এ ভগ্নাংশের লবকে সবসময় একক ধরে হরকে সে হিসাবে রূপান্তর করে নেয়া হয়। এ ভগ্নাংশের লব নকশায় কোনো রেখার অঙ্কিত দৈর্ঘ্য এবং হর বাস্তব বা জমিনে উক্ত রেখার দৈর্ঘ্য। এ ভগ্নাংশ কোনো রেখার নকশা ও সরজমিনের দৈর্ঘ্যের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই একে প্রতিনিধিত্বকারী ভগ্নাংশ (Representative Fraction – RF) বলা হয় ।
প্রতিনিধিত্বকারী ভগ্নাংশ = সরজমিনে রেখার দৈর্ঘ্য উভয় দৈর্ঘ্য একই এককে
যেমন— নকশায় একটি রেখার দৈর্ঘ্য 16 ইঞ্চি এবং সরজমিনে উক্ত রেখার দৈর্ঘ্য 1 মাইল ।
এক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব ভগ্নাংশ = 1 x 1760 x3 = 3960 (বা 1 : 3960)
এখানে উল্লেখ্য, প্রতিনিধিত্বকারী ভগ্নাংশের হর যত বেশি হবে, নকশার স্কেল তত ছোট হবে।
নকশার বা অঙ্কনের স্কেল প্রধানত তিন প্রকার, যথা—
(ক) সাধারণ স্কেল বা প্লেন স্কেল (Plain scale)
(খ) ডায়াগোনাল স্কেল (Diagonal scale)
(গ) কর্ড স্কেল (Chord scale)।

একটি ভালো স্কেলের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে :
১। এটা প্রয়োজনীয় নিখুঁততায় পড়া যাবে ।
২। এটা উপযোগী দৈর্ঘ্যের হবে। (এটার দৈর্ঘ্য হবে 18 হতে :7 সেমি, কোনোক্রমেই 32 সেমি এর বেশি নয়।
৩। এটা সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে ভাগ করা ও নম্বর দেয়া হবে। ৪। এটায় প্রতিনিধিত্বকারী ভগ্নাংশ লেখা থাকবে ।
৫। এর ব্যবহার সুবিধা থাকবে এবং এর একক ও এককের ‘ভাগের মাঝে শূন্য (0) লেখা থাকবে।
৬। এটাতে পাঠ গ্রহণ করতে গাণিতিক হিসাবনিকাশের দরকার হবে না । ৭। এতে অঙ্কিত রেখাগুলো স্পষ্ট ও সাম্য পুরুত্বের হবে।

(ক) সাধারণ স্কেল বা প্লেন স্কেল (Plain scale) :
এগুলোতে দু’টি ডাইমেনশন পড়া যায়, যেমন— মিটার, ডেসিমিটার, একক এবং এককের দশমাংশ ইত্যাদি। বার্নিশ করা কার্ডবোর্ডে বা প্লাস্টিক সামগ্রীতে তৈরিকৃত ৬টি স্কেলে (A, B, C, D, E, F) ১২টি বহুল ব্যবহৃত ভিন্ন ভিন্ন স্কেল বাজারে পাওয়া যায়। স্থপতি, প্রকৌশলী, জরিপকর এগুলো ব্যবহার করে থাকেন।
(খ) অন্যান্য স্কেল :
১। ভার্নিয়ার স্কেল (Vernier scale) ঃ এগুলো নকশা অঙ্কনে ব্যবহৃত হয় না, সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতিতে কোণ ও দূরত্ব পরিমাপ গ্রহণে ব্যবহৃত হয়।
২। গ্রাফিক্যাল স্কেল (Graphical scale) : এ স্কেল সরজমিনের বোনো বস্তুর দৈর্ঘ্য নকশায় স্কেলে এঁকে দেয়া হয় যেন নকশার সংকোচন বা প্রসারণ সহজেই ধরা যায়।
৩। তুলনামূলক স্কেল (Comparative scale) : বিভিন্ন এককের মান চিত্র বা নকশা হতে পরিমাপ গ্রহণের জন্য সাধারণ (Common) প্রতিনিধিত্বকারী ভগ্নাংশে তৈরি স্কেলই তুলনামূলক স্কেল।
এ স্কেল ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন R.F.-এ তৈরি মানচিত্রে পাঠমান হিসাবনিকাশ না করেও বের করা যায়।
