নক্শা অঙ্কনের জন্য উপযোগী স্কেল এর ব্যবহারিক পাঠ দেখবো আজ। এই পাঠটি সার্ভেয়িং ১ এর “শিকল জরিপের ভুলভ্রান্তি” বিষয়ের একটি পাঠ।
নক্শা অঙ্কনের জন্য উপযোগী স্কেল

জরিপ এলাকার নকশা প্রকৃত আকারে আঁকতে হলে জরিপ এলাকার সমান কাগজের দরকার হবে। এটা কোনোভাবে সম্ভব নয় বিধায় এলাকার নক্শা তৈরিকালে প্রকৃত মাপকে একটা উপযোগী অনুপাতে ছোট করে নেয়া হয়। আনুপাতিক হারে ছোট করে নেয়ার জন্য এলাকার ধরন, নক্শার ব্যবহার ক্ষেত্র, এলাকার ক্ষেত্রফল ইত্যাদি দিক বিবেচনা করতে হয়। নক্শায় অঙ্কিত দৈর্ঘ্য ও মাঠের প্রকৃত দৈর্ঘ্য—এ দু’য়ের অনুপাতকেই স্কেল বুঝায়। স্কেল এত বড় হওয়া উচিত যেন নকশায় মিলিমিটারের কম পড়তে না হয় এবং এত ছোট স্কেল ব্যবহার করা উচিত যেন নকশায় সব তথ্যাদি অঙ্কন করা যায়।

সাধারণত মানচিত্র প্রণয়নে ছোট স্কেল এবং নক্শা প্রণয়নে বড় স্কেল ব্যবহৃত হয়। কেননা মানচিত্রে বস্তুর অবস্থান নিখুঁত মাপের না হয়ে প্রতীকী অবস্থান এবং নক্শায় বস্তুর অবস্থান নির্ধারিত স্কেলে সঠিকভাবে করতে হয়। যদিও অঙ্কনের ক্ষেত্রে স্কেলকে ছোট, মাঝারি, বড় নামে আখ্যায়িত করা হয়, মূলত এগুলো আপেক্ষিক নামকরণ মাত্র। সাধারণভাবে একে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে, যথা- (ক) বড় স্কেল (খ) মাঝারি স্কেল ও (গ) ছোট স্কেল ।

(ক) বড় স্কেল— 1 একক = 1000 একক বা এর কম- ( 1 : 1000, 1: 500 ইত্যাদি) (খ) মাঝারি স্কেল— 1 একক = 1000 একক হতে এক একক = 10,000 একক (1 : 2000, 1 : 5000 ইত্যাদি) (গ) ছোট স্কেল— 1 একক = 10,000 একক হতে অধিক ( 1 : 10,000, 1: 50,000) ইত্যাদি)। নিচে বিভিন্ন ধরনের নকশার জন্য উপযোগী স্কেলের অনুমোদিত তালিকা দেয়া হলে। ঃ

মানুষ প্রথম বড় কাঠামো তৈরি করার পর থেকে জরিপ করা হয়েছে। প্রাচীন মিশরে, নীল নদের বার্ষিক বন্যার পরে সীমানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে একটি দড়ি স্ট্রেচার সরল জ্যামিতি ব্যবহার করত। গিজার গ্রেট পিরামিডের প্রায় নিখুঁত বর্গক্ষেত্র এবং উত্তর-দক্ষিণ অভিযোজন, গ. 2700 খ্রিস্টপূর্বাব্দ, মিশরীয়দের জরিপ করার আদেশ নিশ্চিত করে। গ্রোমা যন্ত্রের উৎপত্তি মেসোপটেমিয়ায় (খ্রিস্টপূর্ব ১ম সহস্রাব্দের প্রথম দিকে)। স্টোনহেঞ্জে প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ (আনুমানিক 2500 খ্রিস্টপূর্ব) প্রাগৈতিহাসিক জরিপকারীরা খুঁটি এবং দড়ি জ্যামিতি ব্যবহার করে স্থাপন করেছিলেন।

