শিকল জরিপে জরিপ রেখা পঙক্তিকরণ

শিকল জরিপ বা চেইন সার্ভেয়িংয়ে আমরা মাঠে যখনই কোনো একটি নির্দিষ্ট রেখার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করি, কারিগরি ভাষায় সেই রেখাকে বলা হয় ‘শিকল রেখা’ বা ‘চেইন লাইন’। জ্যামিতির সাধারণ নিয়মেই দুটি বিন্দুর মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব হলো একটি সোজা সরলরেখা। তাই পরিমাপ করার সময় শিকল রেখাটি একদম পঙক্তিবদ্ধ বা সোজা হওয়া বাধ্যতামূলক। শিকল যদি ডানে-বামে একটুও বেঁকে যায়, তবে হিসাবে ভুল রিডিং আসবে এবং পুরো ম্যাপের নিখুঁততা নষ্ট হয়ে যাবে।

পাঠ পরিচিতি: > * বই: সার্ভেয়িং ১ (Surveying 1)

  • অধ্যায়: শিকল জরিপের কার্যপ্রণালি (Procedures of Chain Surveying)

যখন জরিপ রেখাটি ছোট হয় এবং এর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পরিষ্কার দেখা যায়, তখন শিকল সোজা টেনে পরিমাপ করা খুবই সহজ। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন জরিপ রেখাটি অনেক দীর্ঘ হয় কিংবা মাঝখানে কোনো উপত্যকা, নিচু ভূমি বা খানাখন্দ থাকার কারণে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের স্টেশনটি খালি চোখে ভালো করে দেখা যায় না।

এই সমস্যার সমাধান করতেই আমাদের সাহায্য নিতে হয় ‘রেঞ্জিং রড’-এর। দুই প্রান্তের স্টেশনদ্বয়ের মাঝখানের দূরত্বে নিখুঁত সোজা লাইন বজায় রাখার জন্য অন্তর্বর্তী বিন্দুগুলোতে রেঞ্জিং রড পুঁতে সবগুলোকে একই সরলরেখায় নিয়ে আসার যে টেকনিক, তাকেই বাংলায় বলা হয় পঙক্তিকরণ আর ইংরেজিতে বহুল পরিচিত শব্দে বলা হয় রেঞ্জিং (Ranging)

এই কাজটি সার্ভেয়াররা খালি চোখে নিশানা করেও করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে ‘লাইন রেঞ্জার’ (Line Ranger) নামক যন্ত্র ব্যবহার করেও করতে পারেন। মূলত দুই পদ্ধতিতে রেঞ্জিং করা হয়ে থাকে:

  • (ক) প্রত্যক্ষ পঙক্তিকরণ (Direct Ranging)
  • (খ) পরোক্ষ পঙক্তিকরণ (Indirect Ranging) বা বিনিময়ক্রম পঙক্তিকরণ (Reciprocal Ranging)

আজকে আমরা মাঠপর্যায়ের সবচেয়ে চেনা এবং সরাসরি পদ্ধতি—অর্থাৎ ‘প্রত্যক্ষ পঙক্তিকরণ’ নিয়ে বিস্তারিত জানব।

 

জরিপ রেখা পঙক্তিকরণ

শিকল জরিপে জরিপ রেখা পঙক্তিকরণ: নিখুঁত সরলরেখা টানার আর্ট

শিকল জরিপ বা চেইন সার্ভেয়িংয়ে আমরা মাঠে যখনই কোনো একটি নির্দিষ্ট রেখার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করি, কারিগরি ভাষায় সেই রেখাকে বলা হয় ‘শিকল রেখা’ বা ‘চেইন লাইন’। জ্যামিতির সাধারণ নিয়মেই দুটি বিন্দুর মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব হলো একটি সোজা সরলরেখা। তাই পরিমাপ করার সময় শিকল রেখাটি একদম পঙক্তিবদ্ধ বা সোজা হওয়া বাধ্যতামূলক। শিকল যদি ডানে-বামে একটুও বেঁকে যায়, তবে হিসাবে ভুল রিডিং আসবে এবং পুরো ম্যাপের নিখুঁততা নষ্ট হয়ে যাবে।

যখন জরিপ রেখাটি ছোট হয় এবং এর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পরিষ্কার দেখা যায়, তখন শিকল সোজা টেনে পরিমাপ করা খুবই সহজ। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন জরিপ রেখাটি অনেক দীর্ঘ হয় কিংবা মাঝখানে কোনো উপত্যকা, নিচু ভূমি বা খানাখন্দ থাকার কারণে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের স্টেশনটি খালি চোখে ভালো করে দেখা যায় না।

এই সমস্যার সমাধান করতেই আমাদের সাহায্য নিতে হয় ‘রেঞ্জিং রড’-এর। দুই প্রান্তের স্টেশনদ্বয়ের মাঝখানের দূরত্বে নিখুঁত সোজা লাইন বজায় রাখার জন্য অন্তর্বর্তী বিন্দুগুলোতে রেঞ্জিং রড পুঁতে সবগুলোকে একই সরলরেখায় নিয়ে আসার যে টেকনিক, তাকেই বাংলায় বলা হয় পঙক্তিকরণ আর ইংরেজিতে বহুল পরিচিত শব্দে বলা হয় রেঞ্জিং (Ranging)

এই কাজটি সার্ভেয়াররা খালি চোখে নিশানা করেও করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে ‘লাইন রেঞ্জার’ (Line Ranger) নামক যন্ত্র ব্যবহার করেও করতে পারেন। মূলত দুই পদ্ধতিতে রেঞ্জিং করা হয়ে থাকে:

  • (ক) প্রত্যক্ষ পঙক্তিকরণ (Direct Ranging)

  • (খ) পরোক্ষ পঙক্তিকরণ (Indirect Ranging) বা বিনিময়ক্রম পঙক্তিকরণ (Reciprocal Ranging)

আজকে আমরা মাঠপর্যায়ের সবচেয়ে চেনা এবং সরাসরি পদ্ধতি—অর্থাৎ ‘প্রত্যক্ষ পঙক্তিকরণ’ নিয়ে বিস্তারিত জানব।

 

জরিপ রেখা পঙক্তিকরণ

 

প্রত্যক্ষ পঙক্তিকরণ (Direct Ranging): যখন চোখেই মেলে নিশানা

মাঠ যদি সমতল হয় এবং প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে শেষ স্টেশনটি পরিষ্কার দেখা যায়, তখন আমরা এই প্রত্যক্ষ বা ডিরেক্ট পদ্ধতি ব্যবহার করি। চলুন একটা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে মেকানিজমটা বোঝা যাক:

ধরুন, মাঠে আমাদের A (শুরুর বিন্দু) এবং B (শেষ বিন্দু) নামে দুটি প্রধান স্টেশন আছে। জরিপকারী বা সার্ভেয়ার প্রথমে A এবং B দুটি বিন্দুতেই দুটি রেঞ্জিং রড একদম খাড়া বা উল্লম্বভাবে পুঁতে দেন।

এবার জরিপকারী A স্টেশনের ঠিক পেছনে (অনূর্ধ্ব ১ মিটার দূরে) দাঁড়িয়ে এক চোখ বন্ধ করে B স্টেশনের রডটির দিকে নিশানা করেন। এরপর তাঁর একজন সহকারীকে একটি মাঝখানের বিন্দুতে (যেমন চিত্র অনুযায়ী P বা Q বিন্দুতে) আরেকটি রেঞ্জিং রড হাতে নিয়ে দাঁড়াতে বলেন। জরিপকারী দূর থেকে দেখে সহকারীকে নির্দেশ দেন যেন রডটি ডানে বা বামে সরিয়ে এমন এক বিন্দুতে পোঁতা হয়, যাতে A বিন্দু থেকে তাকালে মাঝখানের রডগুলোর জন্য পেছনের B রডটি আর আলাদা করে দেখা না যায়। অর্থাৎ, সবগুলো রড যেন এক লাইনে মিলেমিশে একটি মাত্র রড মনে হয়। যখনই এটা হবে, বুঝতে হবে AB লাইনটি এখন এক্কেবারে সোজা!

 

জরিপ রেখা পঙক্তিকরণ

 

মাঠপর্যায়ের গোপন ভাষা: সার্ভেয়ারের হাতের ইশারা (Hand Signals)

মাঠে যখন ১০০ বা ২০০ ফুট দূর থেকে কাজ করা হয়, তখন কড়া রোদে বা বাতাসের শব্দে মুখে চিৎকার করে ডানে-বামে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া অসম্ভব। তাই একজন প্রফেশনাল সার্ভেয়ার ও তাঁর সহকারীর মধ্যে যোগাযোগের জন্য কিছু চমৎকার আন্তর্জাতিক ‘হাতের ইশারা’ বা সংকেত ব্যবহার করা হয়। মাঠে কাজ করার সময় এই ইশারাগুলো বাইবেলের মতো কাজ করে:

  • ডান হাত ধীরে ধীরে ডানদিকে নাড়ানো: এর অর্থ হলো, সহকারীকে তাঁর হাতের রেঞ্জিং রডটি খুবই আলতো করে বা ধীরে ধীরে ডানদিকে সরাতে হবে।
  • বাম হাত ধীরে ধীরে বামদিকে নাড়ানো: সহকারীকে রডটি আলতো করে বামদিকে সরাতে হবে।
  • ডান হাত খাড়া করে ডানদিকে ঝাড়া বা নাড়ানো: এর অর্থ হলো, রডটি মাটিতে ঠিক জায়গায় আছে, কিন্তু রডের মাথা বা অগ্রভাগ ডানদিকে কাত হয়ে আছে, সেটা সোজা করে খাড়া করতে হবে।
  • বাম হাত খাড়া করে বামদিকে ঝাড়া বা নাড়ানো: রডের অগ্রভাগ বামে কাত হয়ে আছে, তা সোজা করে খাড়া করতে হবে।
  • উভয় হাত মাথার উপর স্থিরভাবে স্থাপন করা: এটি সহকারীর জন্য পরম শান্তির সংকেত! এর অর্থ হলো—রডের অবস্থান ডানে-বামে সবদিক থেকে এক্কেবারে পারফেক্ট বা ঠিক আছে।
  • উভয় হাত সামনের দিকে তুলে হঠাৎ নিচে নামানো: এর অর্থ হলো কাজ শেষ, “এই বিন্দুতেই এখন জোরে রডটা মাটিতে পুঁতে দাও!”

 

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ জরিপ
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

পঙক্তিকরণ বা রেঞ্জিং হলো মাঠের বুকে একটি নিখুঁত জ্যামিতিক সরলরেখা ফুটিয়ে তোলার কারিগরি আর্ট। এই ধাপে সার্ভেয়ারের চোখের তীক্ষ্ণ নিশানা এবং সহকারীর সাথে হাতের ইশারার মেলবন্ধনই দিনশেষে ম্যাপের নিখুঁততার প্রথম গ্যারান্টি দেয়।

Leave a Comment